জবর দখল ও বিরুদ্ধ দখল কি?

অনেকেই বুঝেন না জবর দখল আর বিরুদ্ধ দখল কি? এই দুটো ট্রার্মসের অর্থ বুঝেন না। দুটো ট্রার্মসকেই এক করে পেলেন। যে কারণে তামাদি আইনের ২৮ ধারা তাদের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তামাদি আইনের ২৮ ধারা শুধু বিরুদ্ধ দখল নিয়ে বিধান প্রণয়ণ করেছে, জবর দখল নিয়ে নয়। তাই জোর জবরদোস্তি দখল করে কখনো জমিতে স্বত্ব লাভ করা যায়না। যা তামাদি আইন সাপোর্ট করেনা।

আসুন বিরুদ্ধ দখল ও জবর দখল কি একটু জেনে নেই।

একটা উদাহরণ দিই, সালাম সাহেবের বাড়ি রহিম মিয়া চাকরে কাজ করতো। সালাম মিয়ার অঢ়েল জমি জমা, রহিম মিয়া একদিন সালাম সাহেবের কাছে এক দিন আবদার করলো, আপনার বাড়িতে আমি দীর্ঘ ১৫ বছর কাজ করি অথচ আমার এক টুকরো ঘর বাধার জায়গা নাই। সালাম সাহেবকে অনুরোধ করলো রহিম মিয়াকে ঘরবাড়ি করার জন্য এক টুকরো জমি দিতে। সালাম সাহেব দয়ার সাগর দিয়ে দিলো ৪ শতক ভূমি কিন্তু কাগজে কলমে নয় মুখে। রহিম মালিকের মত জমিটা ব্যবহার করতে লাগলো, সালাম সাহেবও এটার প্রতিবাদ করলোনা বরং ভাবলো দিয়ে দিয়েছি তা সে যা করার করুক। বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলো সালাম সাহেব ও রহিমও মারা গেলো, ১৫ বছর হয়ে গেলে। দুইজনের ছেলে মেয়ে ওয়ারিশ বড় হয়ে গেলো। জায়গার দাম পাঁচগুণ হয়ে গেলো। রহিমের ছেলে মেয়েদের আগের সে দুরবস্থা নাই। সালাম সাহেবের ছেলেরা খেয়াল করলো তাদের চাকর রহিমের ছেলে মেয়েরা খুব একটা মাথা নত করে চলেনা। তাই তার ভাবলো তারাতো জমির মালিক, রহিমের ছেলেদের দখল থেকে উচ্ছে করে দিবে। তারা মামলা করলো এবং হেরেও গেলো। কারণ রহিমের ওয়ারিশেরা প্রমাণ করলো যে তাদের বিরুদ্ধ দখল ১২ বছরের জন্য তাদের পক্ষে সত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

১। মূল মালিকের অবগতিতে শান্তিপূর্ণ ভাবে ১২ বছর উদ্ধকাল দখলে আছে।
২। মূল মালিক তাদের কখনো উচ্ছেদ করেনাই।
৩। দখল কার রহিম মালিক পরিচয় দিয়েই ভোগ দখল করেছে।
৪। কোন মামলা মোকদ্দমাও করা হয় নাই ১২ বছরে।
৫। একটা ১২ বছরের বেশি দখলে ছিলো। তাই বিরুদ্ধ দখল জনিত কারণে তাদের পক্ষে স্বত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

এবার আসুন জেনে নিই জবর দখল কি?
আপনি মালিক না হয়েও আরেকজনের জমিতে ৫০ বছর দখলে আছেন। আপনি স্থানীয় নেতা বা মাতাব্বর তাই আপনার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে শাসিয়ে দিয়েছেন। মামলা করতে গেলে ভয় দেখিয়েছেন এটা প্রমাণ করা মানে আপনি জবর দখলে আছেন। জবর দখলে থাকলে এটা যদি আদালতের কাছে বিরুদ্ধ দখল হিসাবে প্রমাণ না হয় তাহলে আপনি ২০০ বছর দখলে থেকেও মালিক হবেন না।

সুতরাং জবর দখল ও বিরুদ্ধ দখল বুঝে আসলে তামাদি আইনের ২৮ ধারা বাতিলের কথা চিন্তাও করতে হবেনা।

ভূমি আইনে যে বিধান সমূহ আনা হয়েছে সেগুলো জবর সংক্রান্ত বিষয় সমূহ।
যদিও ভূমি মন্ত্রী বিরুদ্ধ দখল সত্বের বিষয়ও বাদ করতে চেয়েছেন কিন্তু দেশী বিদেশী আইনজ্ঞদের পরামর্শের জন্য বিরুদ্ধ দখলের বিষয় বাদ দেওয়া যায়নি।
কেনো Law of Prescription / বিরুদ্ধ দখল শুধু আমাদের দেশীয় ম্যাটার না। এটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বিভিন্ন কমনওয়েলথ দেধে প্র‍্যাকটিস করা হয়।

লিখক: নাছের মিয়াজী, অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, ফেনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *