জমি দখল চেষ্টা বা জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ প্রতিহত করতে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং নতুন ভূমি আইনে প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। নিচে সংক্ষেপে ধারা উল্লেখপূর্বক আলোচনা করা হলো:
১. দেওয়ানি প্রতিকার (Civil Remedy):
জমি রক্ষা করার মূল প্রতিকার হলো দেওয়ানি আদালত।
- মামলা: প্রথমেই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৪ ও ৫৫ ধারা অনুযায়ী ‘চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ (Perpetual Injunction)-এর মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা: মামলা চলাকালীন যাতে বিবাদী কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা মাটির আকার পরিবর্তন না করতে পারে, সেজন্য দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৯, বিধি ১ ও ২ (Order 39, Rule 1 & 2) অনুযায়ী ‘অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ (Temporary Injunction) বা ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo)-এর আবেদন করতে হবে। আদালত সন্তুষ্ট হলে বিবাদীকে জমিতে প্রবেশ বা নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেবেন। এটি ভঙ্গ করলে বিবাদীর সিভিল জেল হতে পারে।
২. ফৌজদারি প্রতিকার (Criminal Remedy):
তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ বা শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা দূর করতে:
- ১৪৪/১৪৫ ধারা: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ বা ১৪৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা করলে আদালত পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারেন।
- দণ্ডবিধি: জোরপূর্বক জমিতে ঢুকলে দণ্ডবিধির ৪৪৭ ধারায় (অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ) এবং সম্পত্তির ক্ষতি বা মাটি কাটলে ৪২৭ ধারায় (অনিষ্ট বা Mischief) মামলা করা যায়।
৩. ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩:
এটি বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর ও দ্রুত প্রতিকারের আইন।
- ধারা ৮ (দখল চ্যুতি): এই ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি বেআইনিভাবে অন্যের জমি দখল করে বা দখলের চেষ্টা করে, তবে তা একটি ধর্তব্য অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
- এই আইনের অধীনে ভুক্তভোগী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করলে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বা সংক্ষিপ্ত বিচারপদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ দখল বা নির্মাণকাজ বন্ধ করতে পারেন।
পরামর্শ: ঘটনার শুরুতেই থানায় জিডি (GD) করুন এবং দ্রুত দেওয়ানি আদালতে গিয়ে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়ে আসুন।
