মোবাইল অ্যাপেই এখন জমির নামজারি: ভোগান্তিহীন স্মার্ট সমাধান!

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভূমি ব্যবস্থাপনা এখন আরও সহজ ও জনবান্ধব। জমির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য নামজারি বা মিউটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। আগে এই কাজের জন্য বারবার ভূমি অফিসে ধর্না দিতে হতো, যা ছিল সাধারণ মানুষের জন্য সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। এই ভোগান্তি দূর করতে ভূমি মন্ত্রণালয় চালু করেছে “Namjari” (নামজারি) মোবাইল অ্যাপ। এখন আর কোনো মধ্যস্থতাকারী বা দালাল নয়, নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই ঘরে বসে নিরাপদে নামজারির আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব।

নামজারি অ্যাপের বিশেষ সুবিধা ও উপকারিতা:

এই অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন নাগরিক নিচের সুবিধাগুলো পাবেন:

১. ঘরে বসে সেবা: ভূমি অফিসে না গিয়ে যেকোনো স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টা আবেদন করার সুযোগ।

২. স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা: দালালের খপ্পর বা অতিরিক্ত টাকা খরচের ভয় নেই। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়েই কাজ করা যায়।

৩. সহজ ফাইল আপলোড: স্ক্যানার মেশিনের প্রয়োজন নেই, মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে সরাসরি অ্যাপে দলিল আপলোড করা যায়।

৪. রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং: আপনার আবেদনটি এসিল্যান্ড নাকি তহশিল অফিসে আটকে আছে, তা অ্যাপের মাধ্যমেই দেখা যায়।

৫. অনলাইন পেমেন্ট ও ডেলিভারি: ফি পরিশোধ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত খতিয়ান (পর্চা) ও ডি.সি.আর সংগ্রহ—সবই অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করা সম্ভব।

অ্যাপ দিয়ে নামজারি আবেদনের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

নিচে অ্যাপটি ব্যবহার করে আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো:

১. অ্যাপ ডাউনলোড ও প্রস্তুতি

প্রথমে গুগল প্লে-স্টোর (Google Play Store) থেকে “Namjari” বা “Smart Land Seba” অ্যাপটি ইন্সটল করে নিন। আবেদন শুরু করার আগে আপনার ছবি, এনআইডি, জমির দলিল, খতিয়ান এবং খাজনার দাখিলার ছবি মোবাইলে তুলে প্রস্তুত রাখুন।

২. নিবন্ধন ও লগ-ইন

অ্যাপটি ওপেন করে “নাগরিক” অপশনে যান। আপনার সচল মোবাইল নম্বর ও এনআইডি (NID) নম্বর দিয়ে খুব সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। পরবর্তীতে শুধু মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করলেই হবে।

৩. আবেদন ফরম পূরণ

অ্যাপের ড্যাশবোর্ড থেকে “নামজারি আবেদন” বাটনে ক্লিক করুন। এরপর নির্দেশিত তথ্যগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করুন:

• জমির লোকেশন: জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা অ্যাপ থেকে সিলেক্ট করুন।

• মালিকানার তথ্য: আবেদনকারী হিসেবে আপনার তথ্য (এনআইডি থেকে অটোমেটিক আসবে) এবং যার কাছ থেকে জমি পেয়েছেন (দাতা/বিবাদী) তার তথ্য দিন।

• জমির তফসিল: জমির খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং দলিলে উল্লিখিত জমির পরিমাণ সঠিকভাবে লিখুন।

৪. কাগজপত্র আপলোড (সংযুক্তি)

ফরম পূরণের পর অ্যাপের “সংযুক্তি” অপশনে গিয়ে গ্যালারি থেকে ১ নম্বর ধাপে প্রস্তুত রাখা দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য কাগজপত্রের ছবিগুলো আপলোড করে দিন।

৫. ফি পরিশোধ (৭০ টাকা)

সব তথ্য ঠিক থাকলে ‘দাখিল করুন’ বাটনে চাপ দিন। অ্যাপ আপনাকে পেমেন্ট অপশনে নিয়ে যাবে। সেখান থেকে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে প্রাথমিক আবেদন ফি ৭০ টাকা পরিশোধ করুন।

৬. ট্র্যাকিং ও শুনানি

ফি জমা দেওয়ার পর আপনি একটি ট্র্যাকিং আইডি পাবেন। এটি দিয়ে অ্যাপের “আবেদনের অবস্থা” মেনু থেকে ফাইলের বর্তমান অবস্থান দেখতে পারবেন। এসিল্যান্ড অফিস থেকে যাচাই শেষে অ্যাপের নোটিফিকেশন বা এসএমএস-এর মাধ্যমে আপনাকে শুনানির তারিখ জানানো হবে।

৭. চূড়ান্ত অনুমোদন ও খতিয়ান সংগ্রহ

শুনানি শেষে নামজারি অনুমোদিত হলে, অ্যাপে ঢুকে চূড়ান্ত ফি ১,১০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই অ্যাপ থেকে QR Code যুক্ত নামজারি খতিয়ান এবং DCR ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনার মূল্যবান সময়ের সাশ্রয় করুন এবং ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা এড়িয়ে চলুন।