অগ্রক্রয়াধিকার (Right of Pre-emption) হল একটি আইনগত অধিকার, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পত্তি (বিশেষত জমি) বিক্রির ক্ষেত্রে প্রথমে কেনার সুযোগ দেয়। এটি মূলত সহ-শরিক, প্রতিবেশী বা নির্দিষ্ট সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
কেন অগ্রক্রয়াধিকার প্রয়োজন?
ভূমি বিভাজন রোধ করা – যেন জমি ছোট ছোট অংশে বিভক্ত না হয়।
পারিবারিক বা যৌথ মালিকানা সংরক্ষণ করা – বহিরাগতদের কাছে সম্পত্তি বিক্রি হলে পরিবারের মধ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা – যাতে মালিকানার জটিলতা সৃষ্টি না হয়।
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ কমানো – সহ-শরিকদের মধ্যে সমস্যা এড়ানোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
কোথায় অগ্রক্রয়াধিকার প্রযোজ্য?
বাংলাদেশে নিম্নলিখিত আইনগুলো অগ্রক্রয়াধিকার নির্ধারণ করেছে:
কৃষিজমির ক্ষেত্রে:
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (ধারা ৯৬) অনুযায়ী,
✔ শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সহ-শরিকগণ কৃষিজমির অগ্রক্রয়ের মামলা করতে পারেন।
✔ নোটিশ পাওয়ার ২ মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে।
✔ যদি নোটিশ না পান, তবে সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা করা যাবে।
শিশির ও সুমন যৌথভাবে একটি পুকুরের মালিক।
শিশির তার অংশ একজন বহিরাগতকে বিক্রি করে দেয়।
পুকুরটি সুমনের প্রধান আয়ের উৎস, তাই তিনি এই অংশটি কিনতে চান।
আইনি প্রতিকার:
।
হাসান ও লায়লা ভাইবোন এবং তারা ২০ শতক জমির যৌথ মালিক।
লায়লা তার অংশ একজন বহিরাগতকে বিক্রি করে দেয়।
হাসান এই জমি কিনতে ইচ্ছুক ও সামর্থ্যবান।
আইনি প্রতিকার:
সহ-শরিক (Co-sharer) হিসেবে হাসানের অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে।
তিনি বিক্রির ২ মাসের মধ্যে মামলা করতে পারবেন।
যদি তিনি ২ মাসের মধ্যে না জানেন, তবে সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
হাসান আদালতে মামলা করলে জমিটি তিনি পেতে পারেন।
রাজু ও তানভীর যৌথভাবে একটি পুকুরের মালিক।
রাজু তার অংশ একজন বহিরাগতকে বিক্রি করে দেয়।
পুকুরটি তানভীরের প্রধান আয়ের উৎস, তাই তিনি এই অংশটি কিনতে চান।
আইনি প্রতিকার:
সহ-শরিক হিসেবে তানভীরের অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬ ধারা অনুযায়ী, তিনি বিক্রির ২ মাসের মধ্যে মামলা করতে পারবেন।
যদি নোটিশ না পান, তাহলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
✅ তানভীর মামলায় জয়ী হলে, তৃতীয় ব্যক্তির ক্রয় বাতিল হবে এবং তিনি পুকুরের মালিক হবেন।
অগ্রক্রয়ের মামলা করার নিয়ম
✔ মামলায় জমির বিক্রেতা ও ক্রেতাকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
✔ যদি বিক্রির আগে মামলা করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
✔ বিক্রির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর মামলা করতে হবে।
✔ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা না করলে, অগ্রক্রয়ের অধিকার হারিয়ে যাবে।
মামলার খরচ ও আর্থিক দিক
কৃষিজমির ক্ষেত্রে:
✔ বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ২৫% ক্ষতিপূরণ এবং ৮% সরল সুদ জমা দিতে হবে।
অকৃষিজমির ক্ষেত্রে:
✔ বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫% ক্ষতিপূরণ এবং উন্নয়নের ওপর অতিরিক্ত ৬.২৫% সুদ দিতে হবে।
✅ মামলা জিতলে আদালতের নির্দেশে নতুন মালিকের নামে জমির রেজিস্ট্রেশন হবে।
আপিল ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ
✔ দেওয়ানি আপিল আদালতে আপিল করা যায়।
✔ আপিলেও অসন্তুষ্ট হলে সুপ্রীম কোর্টে রিভিশন দায়ের করা যেতে পারে।
